জ্ঞানের আকাশে ধ্রুবতারা: তারেক রহমান, ড. মিলন ও ববি হাজ্জাজের প্রজ্ঞালোকে কারিগরি ও এআই প্রযুক্তির এক নবজাগরণ
সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্ট : মোঃ সাইফুল ইসলাম এম.এ (ফিলোসোফি)
মোবাইলঃ 01714339019
----------------------------------------------------------------
ভূমিকা:
শিক্ষার রত্নগর্ভা খনিতে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বেলে যে জাতি অজ্ঞতার অমানিশা ভেদ করে, তাদের স্বপ্নের তরী সবসময়ই সাফল্যের সোনালি বন্দরে নোঙর করে। আজকের এই বহুমাত্রিক পরিবর্তনের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের শিক্ষাগগনে এক নতুন অরুণোদয়ের আভা ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক যেমন করে ভোরের প্রথম সূর্যরশ্মি রাতের হিমেল অন্ধকারকে দূর করে, তেমনি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তার স্ফুলিঙ্গ এবং উচ্চশিক্ষায় আলোকিত দুই কাণ্ডারি—শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের প্রজ্ঞার ছোঁয়ায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এক বসন্তের নবপল্লবে সেজে উঠেছে। তাঁরা নিজেরা যেহেতু জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত সুশিক্ষিত নক্ষত্র, তাই তাঁদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় শিক্ষার কণ্টকাকীর্ণ পথটি আজ মখমলের মতো মসৃণ ও যুগোপযোগী হয়ে উঠেছে। সনাতন শিক্ষার ধূলিমলিন প্রান্তর পেরিয়ে যে নতুন ধারা আজ প্রগতির মহাসড়কে ধাবমান, তা কেবল একটি জাতির মেধা বিকাশের সিঁড়ি নয়, বরং ভবিষ্যতের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার এক সুদৃঢ় ইস্পাতের কাঠামো। এই মহিমান্বিত রূপান্তরের প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে আছে আমাদের হৃদয়ে প্রোথিত আদর্শের বীজ এবং প্রগতির এক অম্লান বর্ণিল ক্যানভাস।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: জন ডিউই, "ডেমোক্রেসি অ্যান্ড এডুকেশন", পৃষ্ঠা ৪১ (Dewey, John, Democracy and Education, Macmillan Publishing, 1916).
সনাতন অন্ধকারের অবসান ও প্রায়োগিক প্রগতির নবযাত্রা
মরুভূমির রুক্ষ বুকে যেমন স্নিগ্ধ মরূদ্যানের দেখা মেলে, তেমনি আমাদের জীর্ণ ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার মৃত্তিকায় আজ চীনের আধুনিক ও প্রায়োগিক মডেলের সঞ্জীবনী সুধা বর্ষিত হচ্ছে। যুগের পর যুগ ধরে আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো ছিল কেবল পুঁথিগত বিদ্যার এক অন্তহীন গোলকধাঁধা, যেখানে সৃজনশীলতার মুক্ত পাখিরা ডানা মেলার আকাশ পেত না। কিন্তু আজ, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সুচিন্তিত দিকনির্দেশনার আলোকবর্তিকা এবং স্বয়ং উচ্চশিক্ষিত শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মহোদয়ের সুনিপুণ কারিগরিতে সেই শৃঙ্খলিত দশা থেকে আমাদের মুক্তি ঘটছে। তাঁদের বর্ণিল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পাণ্ডিত্যের পরশপাথরের ছোঁয়ায় শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তর আজ খাঁটি সোনায় পরিণত হচ্ছে, কারণ একজন শিক্ষিত কাণ্ডারিই জানেন কীভাবে ঝড়ের রাতে শিক্ষার জাহাজকে সঠিক বন্দরে ভেড়াতে হয়। শিক্ষার আকাশ থেকে আজ জড়তার কালো মেঘ সম্পূর্ণ কেটে গিয়ে তৈরি হয়েছে উৎপাদনমুখী ও কারিগরি শিক্ষার এক সুবর্ণ প্রান্তর, যেখানে থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল মিলেমিশে একাকার।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: পল হিয়ার্স ও ডেভিড পেল, "হিউম্যান ক্যাপিটাল ডায়নামিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ", পৃষ্ঠা ৮৮ (Heurs, Paul & Pels, David, Human Capital Dynamics, Academic Press, 2021).
সনাতন শিক্ষা বনাম প্রায়োগিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ব্যবধান
প্রচলিত ধারায় শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে নোটের বোঝা মাথায় নিয়ে যে সার্টিফিকেট অর্জন করত, তা যেন মরিচা ধরা তলোয়ারের মতো, যা দিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে জীবনযুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকা সম্পূর্ণ অসম্ভব। সনাতন শিক্ষায় কম্পিউটার লিটারেসি বা ক্রিটিক্যাল থিংকিং-এর মতো আধুনিক অস্ত্রগুলোর কোনো ব্যবহার ছিল না, যা মূলত একটি পঙ্গু অশ্বের পিঠে চড়ে রেস জেতার মতো বৃথা চেষ্টা। পক্ষান্তরে, উন্নত বিশ্বের উদীয়মান ড্রাগন খ্যাত চীন তাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি কর্মমুখী ও প্রায়োগিক ভিত্তির এক শক্তিশালী দুর্গের ওপর দাঁড় করিয়েছে। সেখানে শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং কারখানার বাস্তব কাজ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, যার ফলে একজন শিক্ষার্থী পাস করার সাথে সাথেই সরাসরি উৎপাদন প্রক্রিয়ার এক জীবন্ত ইঞ্জিনে পরিণত হয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিশাল ব্যবধানের সেতু নির্মাণ করতে এবং দেশবাসীকে এক নতুন আলোর দিশা দেখাতে আমাদের দুই প্রাজ্ঞ শিক্ষামন্ত্রীর সুশিক্ষিত মনন এক অভাবনীয় জাদুকরী বিপ্লবের জাল বুনছে।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: কার্ল রজার্স, "ফ্রিডম টু লার্ন ইন দ্য টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি", পৃষ্ঠা ১০৫ (Rogers, Carl, Freedom to Learn, Merrill Publishing, 2019).
কেন চীনের আদলে শিক্ষা ব্যবস্থা করা জরুরী?
বৈশ্বিক অর্থনীতির মহাসাগরে চীন বর্তমানে এক অজেয় রণতরী, যার মূল চালিকাশক্তি হলো তাদের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার শক্তিশালী ইঞ্জিন। বাংলাদেশ একটি বিশাল জনসংখ্যার দেশ, যেখানে আমাদের তারুণ্যের প্রাচুর্য যেন খনিতে লুকিয়ে থাকা অপরিশোধিত হীরকখণ্ডের মতো। এই বিশাল যুবশক্তিকে জনমিতির লভ্যাংশ বা 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'-এর উজ্জ্বল অলঙ্কারে রূপান্তর করতে হলে চীনের এই ফলপ্রসূ ও শৃঙ্খলিত মডেলের ছাঁচে তাদের ঢালাই করা ছাড়া বিকল্প কোনো রাজপথ আমাদের সামনে নেই। চীন যেভাবে তাদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাকে জাতীয় অর্থনীতির স্পন্দনে পরিণত করেছে, সেই মডেলটি আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে একদম দস্তানা ও হাতের মতো নিখুঁতভাবে খাপ খেয়ে যায়। আর এই দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তটি গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রিয় নেতার আশীর্বাদপুষ্ট দুই শিক্ষামন্ত্রীর আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির দূরবীন অত্যন্ত চমৎকারভাবে পথ দেখাচ্ছে।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, "বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: স্কিলস ফর দ্য ফিউচার", পৃষ্ঠা ৬২ (World Bank Group, Bangladesh Development Update, 2024).
কারিগরি শিক্ষার পুনর্গঠন ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ
চীনের সফলতার রহস্যময় সিন্দুকের সবচেয়ে বড় চাবিটি হলো তাদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’, যা মূলত জ্ঞানতাত্ত্বিক দ্বীপের সাথে বাস্তবতার মূল ভূখণ্ডের এক মজবুত লোহার সাঁকো। অর্থাৎ, সেখানে কারখানার চাকার শব্দ এবং গবেষণাগারের চিন্তার স্রোত একই মোহনায় এসে মেশে। বাংলাদেশে এতদিন কারিগরি শিক্ষাকে এক অবহেলিত অনাথ শিশুর মতো দেখা হতো, যাকে সাধারণ শিক্ষার আভিজাত্যের কাছে সবসময় মাথা নত করে থাকতে হতো। এই হীনমন্যতার অচলায়তন ভেঙে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার সিংহাসনে বসাতে এবং রোবোটিক্স ও ডিজিটাল সাপ্লাই চেইনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির বীজ বপন করতে আমাদের নেতৃত্ব আজ বদ্ধপরিকর। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত ও প্রাজ্ঞ বলেই এই কাঠামোগত পরিবর্তনের কঠিন পাহাড়টি এত অনায়াসে ডিঙাতে পারছেন।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিবেদন, "টিভিইটি পলিসি অ্যান্ড গ্লোবাল প্র্যাক্টিসেস", পৃষ্ঠা ১৪২ (UNESCO, TVET Policy and Global Practices, UNESCO Publishing, 2023).
ভাষা শিক্ষা এবং চায়না ভাষার গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
বর্তমান বিশ্বায়নের এই বিস্তৃত ক্যানভাসে কেবল মাতৃভাষা বা ইংরেজির তুলি দিয়ে সাফল্যের পুরো ছবি আঁকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশাল আটলান্টিকে নিজেদের আধিপত্যের পাল ওড়াতে বহুভাষিক দক্ষতার অক্সিজেন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। চীনের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক মেলবন্ধন, মেগা প্রকল্পের বিশাল ইমারত এবং এখানে গড়ে ওঠা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মযজ্ঞ বিবেচনা করলে, ‘চায়না ভাষা’ বা ম্যান্ডারিন শেখা যেন এক জাদুকরী চাবি, যা বৈশ্বিক কর্মবাজারের সমস্ত রুদ্ধ দ্বার নিমেষেই খুলে দিতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শী কম্পাসের দিকনির্দেশনায় কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ‘চায়নিজ ল্যাঙ্গুয়েজ + স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র চালুর যে বীজ রোপণ করা হয়েছে, তা মূলত দুই মন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতারই এক উজ্জ্বল মহীরুহ।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: ডেভিড ক্রিস্টাল, "ইংলিশ অ্যাজ এ গ্লোবাল ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড মাল্টিলিঙ্গুয়ালিজম", পৃষ্ঠা ২১৫ (Crystal, David, Multilingualism in International Trade, Cambridge University Press, 2020).
নতুন চুক্তি, সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই নবনির্মিত শিক্ষাগত অংশীদারিত্ব কেবল কাগজ-কলমের মৃত চুক্তি নয়, বরং এটি হলো দুই দেশের প্রগতির মহাসড়কে পাতা সুদৃঢ় রেললাইন। এই সহযোগিতার ইস্পাতকঠিন কাঠামোর ওপর ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে ভবিষ্যতের কিছু স্বপ্নীল বাতিঘর। এর মধ্যে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ হলো শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত করার এক অনন্য তীর্থস্থান। ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ হলো কারিগরি শিক্ষার ত্রুটিগুলো দূর করে তাকে নিখুঁত করার এক শাণিত গবেষণাগার। এবং ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ + স্কিল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন সেন্টার’ হলো ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার এক অপরূপ মোহনা, যেখানে আমাদের তরুণেরা বিশ্বজয়ের রসদ সংগ্রহ করবে।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত চুক্তিপত্র সংকলন, "বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা সহযোগিতা ও রূপরেখা", পৃষ্ঠা ২৯ (Ministry of Education, Bangladesh, Bilateral Educational Frameworks, 2026).
যুবসমাজ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক রূপান্তর
একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়নের রথ তখনই অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে চলে, যখন তার যুবসমাজের অদম্য শক্তিকে সঠিক পন্থায় কাজে লাগানো যায়। শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে সুযোগ সৃষ্টির যে স্বর্ণালী শৃঙ্খল, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের তরুণ সমাজকে বৈশ্বিক অর্থনীতির উপযোগী এক ধারালো অস্ত্রে পরিণত করা সম্ভব। চীনে অধ্যয়নরত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যখন জ্ঞানের আলো নিয়ে স্বদেশে ফিরবে, তখন তারা আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে রকেট ফুয়েলের মতো কাজ করবে, আর দেশে অবস্থিত চীনা শিল্পকারখানাগুলো হয়ে উঠবে আমাদের যুবকদের কর্মসংস্থানের এক বিশাল চারণভূমি। দুই মন্ত্রীর উন্নত ও উচ্চশিক্ষিত মননের দূরবীক্ষণ যন্ত্র এই সুযোগের আকাশছোঁয়া সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) প্রকাশিত প্রতিবেদন, "গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রেন্ডস ফর ইয়ুথ", পৃষ্ঠা ৭৪ (ILO, Global Employment Trends for Youth, International Labour Office, 2025).
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এআই প্রযুক্তির সোনালি পরশ
শিক্ষার মানোন্নয়নের এই মহাযজ্ঞে সবচেয়ে বিপ্লবাত্মক এবং যুগান্তকারী হীরকখণ্ডটি যুক্ত হয়েছে পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর জাদুকরী স্পর্শে। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্লান্তি বা খামখেয়ালিপনার যে কালো মেঘ অনেক সময় একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়নকে ঢেকে দিত, আজ এআই প্রযুক্তির প্রখর সূর্যের আলোয় সেই মেঘ চিরতরে দূরীভূত হচ্ছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যেন এক নির্ভুল দাঁড়িপাল্লা, যা প্রতিটি মেধার নিখুঁত ওজন নিশ্চিত করছে। এআই প্রযুক্তির নির্মোহ ও তদারকিমূলক দূরবীন দিয়ে যখন প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়িত হবে, তখন কোনো শিক্ষার্থীর মেধার ফুল আর অবহেলায় ঝরে পড়বে না। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যন্ত্র নয়; এটি হলো ন্যায়বিচার ও সততার এক আধুনিক স্ফটিক। আমাদের প্রিয় নেতার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এবং ড. মিলন ও ববি হাজ্জাজের মতো উচ্চশিক্ষিত ও প্রাজ্ঞ মন্ত্রীদের আধুনিকায়ন নীতির সাথে এই প্রযুক্তির রসায়ন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনন্য হিমালয়ের চূড়ায় নিয়ে গেছে। প্রতিটি খাতার প্রতিটি ছত্রে যখন এআই তার সুচারু বিচারবুদ্ধির স্বাক্ষর রাখবে, তখন তৈরি হবে এক নির্ভুল, সৎ এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থার এক অভেদ্য দুর্গ।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: স্টুয়ার্ড রাসেল ও পিটার নরভিগ, "আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: এ মডার্ন অ্যাপ্রোচ", পৃষ্ঠা ৩১০ (Russell, Stuart & Norvig, Peter, Artificial Intelligence: A Modern Approach, Pearson Education, 2022).
চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়
চীনের আদলে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার এই সুবিশাল আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার পথে কিছু ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ও ওত পেতে রয়েছে। যেমন—প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের খরা, কারিগরি শিক্ষাকে ছোট করে দেখার মনস্তাত্ত্বিক আগাছা এবং আধুনিক গবেষণাগার স্থাপনের অর্থনৈতিক খরস্রোত। তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মজবুত নোঙর, শিক্ষকদের মানোন্নয়নের নিবিড় পরিচর্যা এবং শিল্প মালিকদের সরাসরি সম্পৃক্তকরণের শক্ত দড়ির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জের উত্তাল ঢেউগুলো সফলভাবে পাড়ি দেওয়া সম্ভব। আর এই পুরো সংস্কার প্রক্রিয়ার বিশাল জাহাজটি অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালনা করছেন আমাদের উচ্চশিক্ষিত ও দূরদর্শী শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, যাঁদের হাতে রয়েছে অভিজ্ঞতার নিখুঁত কম্পাস।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: ইউজিন বারডাচ, "এ প্র্যাকটিক্যাল গাইড ফর পলিসি অ্যানালাইসিস", পৃষ্ঠা ১১৮ (Bardach, Eugene, A Practical Guide for Policy Analysis, CQ Press, 2019).
উপসংহার:
শিক্ষার এই অনুপম রূপান্তরের মহাকাব্য, কারিগরি শিক্ষার জ্বলজ্বলে দীপ্তি এবং এআই প্রযুক্তির নিখুঁত মূল্যায়নের স্ফটিকস্বচ্ছ দর্পণ আজ দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করেছে যে, সঠিক নেতৃত্বের পরশপাথর পেলে যেকোনো জাতি বিশ্বমঞ্চে মুকুটহীন মহারাজার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের অকুতোভয় সাহসিকতার সিংহহৃদয় এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও মাননীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সুদৃঢ় পদক্ষেপ আমাদের হৃদয়ের সব কটি সুপ্ত তন্ত্রীতে এক স্বর্গীয় সিম্ফনি বাজিয়ে চলেছে। তাঁরা নিজেরাই যেহেতু উচ্চশিক্ষার অমৃত সুধায় সিক্ত, তাই আজ শিক্ষার শুষ্ক নদীখাতে এমন সুনিপুণভাবে নবজাগরণের জোয়ার বইছে। এই স্বপ্নীল অভিযাত্রা শুধু একটি দেশের শিক্ষানীতির খোলস বদল নয়, এটি হলো এক নতুন সভ্যতার ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্জন্ম। এই আলোকোজ্জ্বল প্রগতির রাজপথ ধরে আমাদের তরুণ প্রজন্ম যখন দৃপ্তপায়ে এগিয়ে যাবে, তখন আমাদের সোনার বাংলাদেশ পরিণত হবে এক স্বর্গীয় জ্ঞানকাননে, যেখানে সাফল্যের নক্ষত্ররা কখনো পথ হারাবে না।
তত্ত্ব ও তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP), "সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস: রিপোর্ট অন কোয়ালিটি এডুকেশন", পৃষ্ঠা ৫৩ (UNDP, Sustainable Development Goals Framework, United Nations, 2023).