1. admin@dailyprothomdhaka.com : admin :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুল ভর্তিতে নতুন নিয়ম, তিন বিষয়ে দিতে হবে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা স্কুল ভর্তিতে নতুন নিয়ম, তিন বিষয়ে দিতে হবে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা উন্নয়নের সোপান : রাষ্ট্র, শিক্ষা ও অর্থনীতির সমন্বিত পথচলা কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ ও প্রাজ্ঞিক নবজাগরণ: জেন-জেড প্রজন্মের আলোকবর্তিকা ও জীবনমুখী শিক্ষার মহাপরিকল্পনা আগামীর বরিশাল বিভাগ : সম্ভাবনা ও করনীয় শীর্ষক সেমিনার ফোরাতুন্নাহার প্যারিস: উত্তরের জনপদে এক অবিনাশী রাজনীতির অগ্নিশিখা মির্জা আব্বাস: কৈশোর থেকে রাজনীতির শীর্ষপর্যায় (জীবন, সংগ্রাম ও কর্মসংস্থান) “বুড়িচং প্রেসক্লাব” নাম ও “লোগো’ অবৈধভাবে ব্যবহার ও প্রচারণার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ জ্ঞানের আকাশে ধ্রুবতারা: তারেক রহমান, ড. মিলন ও ববি হাজ্জাজের প্রজ্ঞালোকে কারিগরি ও এআই প্রযুক্তির এক নবজাগরণ জ্ঞানের আকাশে ধ্রুবতারা: তারেক রহমান, ড. মিলন ও ববি হাজ্জাজের প্রজ্ঞালোকে কারিগরি ও এআই প্রযুক্তির এক নবজাগরণ

উন্নয়নের সোপান : রাষ্ট্র, শিক্ষা ও অর্থনীতির সমন্বিত পথচলা

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

উন্নয়নের সোপান : রাষ্ট্র, শিক্ষা ও অর্থনীতির সমন্বিত পথচলা

সাংবাদিক, লেখক কলামিস্ট : মোঃ সাইফুল ইসলাম এম. (ফিলোসোফি)
মোবাইলঃ 01714339019
—————————————————————-

ভূমিকা:

মানুষের কথামালা কখনো কেবল শব্দ নয়, তা হয়ে ওঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণের নকশা। একেকটি ভাবনা যেন একেকটি প্রদীপ—অন্ধকারের গভীরে আলো দেখানোর অবিনাশী শিখা। যখন রাষ্ট্রের সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা হয়, তখন সেই শব্দগুলো রূপ নেয় নদীর ঢেউয়ের মতো—যেখানে প্রতিটি ঢেউ অশান্তি ভাঙে এবং নতুন দিগন্তের দিকে গতি আনে। এই প্রবন্ধে আমি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক ভাবনাগুলো বিশ্লেষণ করেছি—দুর্নীতি, শিক্ষা, বেকারত্ব, কৃষি ও কুটির শিল্প, নাগরিক অংশগ্রহণ, প্রযুক্তি—সব মিলিয়ে এক সমন্বিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিশা অনুসন্ধান করেছি।

দুর্নীতি -অদৃশ্য দানবের ছায়া:

দুর্নীতি যেন রাষ্ট্রের আকাশে জমে থাকা ঘন কালো মেঘ, যা সূর্যের আলোকে ঢেকে রাখে। যতই সম্ভাবনার সূর্যোদয় হোক, দুর্নীতির ছায়া মানুষের প্রাণশক্তিকে ম্লান করে দেয়। একদিকে দুর্নীতি ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয়, অন্যদিকে এটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রতিফলন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (২০২৪)-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি প্রকল্প ব্যয়ে প্রায় ৩০% অপচয় দুর্নীতির কারণে ঘটে। এ যেন শস্যভাণ্ডারের ধান ইঁদুরে খেয়ে ফেলার মতো—কৃষকের পরিশ্রম বৃথা হয়, দেশের সম্পদ লোপাট হয়। দুর্নীতি নির্মূলে প্রয়োজন প্রযুক্তির স্বচ্ছতা—যেমন ই-প্রোকিউরমেন্ট ও অনলাইন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। ভারতের কেরালা রাজ্যে স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতি ৪০% হ্রাস পেয়েছে (সূত্র: The Hindu, ২০২৩)। বাংলাদেশও একই পথে হাঁটতে পারে।

শিক্ষা – অশ্বত্থ বৃক্ষের মতো শেকড় ও ডালপালা:

শিক্ষা হলো এক অশ্বত্থ বৃক্ষ—যার শেকড় মাটির গভীরে প্রোথিত এবং ডালপালা আকাশ ছুঁয়ে যায়। কিন্তু শেকড় যদি দুর্বল হয়, বৃক্ষের ছায়া টেকসই হয় নাইউনেস্কো (২০২৪) জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৪৮% শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর শেষে মৌলিক পাঠ্যবোধে ঘাটতি নিয়ে বের হয়। এটি যেন নির্মাণশিল্পের ভিত্তি দুর্বল হওয়া—উঁচু দালান গড়া সম্ভব নয়।আধুনিক শিক্ষায় জোর দিতে হবে দক্ষতা-ভিত্তিক কারিকুলামে। ফিনল্যান্ডের উদাহরণ উল্লেখযোগ্য—সেখানে পরীক্ষার চাপের বদলে শিক্ষার্থীর কৌতূহলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে যদি প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ কৌতূহলনির্ভর শিক্ষা চালু হয়, তবে জ্ঞান হবে নদীর জলের মতো—অবিরাম, বহমান, সৃজনশীল।

বেকারত্ব -অচল নৌকার মতো তরুণসমাজ:

বেকারত্ব হলো নদীর মাঝে ভেসে থাকা অচল নৌকা—যার দাঁড় আছে, বৈঠা আছে, কিন্তু চালানোর শক্তি নেই। তরুণরা শক্তিতে ভরপুর, অথচ কর্মসংস্থানের অভাবে সেই শক্তি অব্যবহৃত থেকে যায়।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (২০২৪) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে বেকারত্বের হার প্রায় ৯%। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের প্রায় ৩৭% চাকরিহীন। এটি যেন মশাল হাতে দৌড়বিদ দৌড় শুরু করতে না পারা—শক্তি আছে, দিশা নেই।সমাধান হিসেবে প্রয়োজন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল উল্লেখযোগ্য—যেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণকে জাতীয় কর্মসংস্থানের মূলধারায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রশিক্ষণ তরুণদের নৌকায় হাওয়া লাগাতে পারে।

কৃষি -সোনার ফসলের অনাবিষ্কৃত ভাণ্ডার:

বাংলাদেশের কৃষি হলো মায়ের আঁচলের মতো—পুষ্টির উৎস, জীবনের ভরসা। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, কৃষি দেশের জিডিপিতে প্রায় ১২.৮% অবদান রাখছে (সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, ২০২৫)। অথচ উৎপাদনশীলতা প্রতিবেশী ভুটানের তুলনায় কম। এর কারণ—সেচের অভাব, মানসম্পন্ন বীজের সংকটএবংবাজারজাতকরণের দুর্বলতা।আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, ড্রোন-ভিত্তিক কৃষি পর্যবেক্ষণ, এবং কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্প এই ক্ষেত্রের নবজাগরণ ঘটাতে পারে। নেদারল্যান্ডস মাত্র একটি ছোট দেশ হয়েও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির মাধ্যমে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষি রপ্তানিকারক—বাংলাদেশও কৃষি বিপ্লবে সেই পথে হাঁটতে পারে।

কুটির শিল্প – গ্রামীণ অর্থনীতির রঙিন কারুকাজ:

কুটির শিল্প হলো বাংলার মাটিতে ফুটে থাকা রঙিন ফুল—যা সৌন্দর্যও ছড়ায়, অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (BSCIC) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ সরাসরি কুটির শিল্পে যুক্ত। তবে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের অভাবে এই খাত এখনও সীমিত।যদি মাননিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রপ্তানির ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই খাত হবে রূপার পাহাড়—যেখানে গ্রামীণ নারী-পুরুষ উভয়ের হাতেই আলোর প্রদীপ জ্বলবে। ভারতের গুজরাটে হ্যান্ডিক্রাফট রপ্তানির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে প্রয়োগযোগ্য।

প্রযুক্তি ও নাগরিক অংশগ্রহণ :
পরিবর্তনের যাদুকরী ছড়িপ্রযুক্তি যেন আলাদিনের প্রদীপ—সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে। দুর্নীতি দমন থেকে শুরু করে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প সবখানেই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে পারে।বাংলাদেশ বর্তমানে ডিজিটাল গভর্নেন্স চালু করেছে—ই-প্রোকিউরমেন্ট, ই-নথি, অনলাইন ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা। কিন্তু আরও নাগরিক অংশগ্রহণ না বাড়ালে এই ছড়ি নিছক কাগজে লেখা মন্ত্র হয়ে থাকবে।এখানে প্রয়োজন কমিউনিটি মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জনগণ সরাসরি প্রকল্প অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এটি যেন সমাজের চোখ—যেখানে অন্ধকারেও সত্যকে ধরা যায়।

সমন্বিত উন্নয়ন -সেতুর মতো সম্পর্ক:

রাষ্ট্রের উন্নয়ন একক কোনো খাতের সাফল্যে আসে না। এটি হলো নদীর দুই তীরকে যুক্ত করা সেতুর মতো—শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান—সবকিছুকে একত্রে আনলেই জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs)-এও একই ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে—যেখানে দারিদ্র্য দূরীকরণ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সবকিছু সমন্বিতভাবে বিবেচিত। বাংলাদেশের উন্নয়ন চিন্তাও হতে হবে এমনই সমন্বিত।

উপসংহার:

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনার দেশ। এখানে আছে কৃষির সোনার ভাণ্ডার, তরুণের অফুরন্ত শক্তি, কুটির শিল্পের রঙিন সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত। তবে দুর্নীতির ছায়া, শিক্ষার দুর্বলতা, বেকারত্বের অচলাবস্থা এবং কুটির শিল্পের সীমাবদ্ধতা দেশকে এগোতে দিচ্ছে না।প্রয়োজন সাহসী পদক্ষেপ—যেখানে রাষ্ট্র হবে স্বচ্ছ, শিক্ষা হবে দক্ষতানির্ভর, কর্মসংস্থান হবে সবার জন্য উন্মুক্ত, কৃষি হবে প্রযুক্তিনির্ভর, কুটির শিল্প হবে বৈশ্বিক। সেই সঙ্গে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা শুধু দর্শক নয়, উন্নয়নের সক্রিয় নির্মাতা।
বাংলাদেশ যদি এই সমন্বিত পথে এগোয়, তবে এটি হবে সোনার নৌকা—যা দুঃখের স্রোত ভেঙে অগ্রগতির মহাসমুদ্রে ভেসে যাবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক প্রথম ঢাকা